জীবন মধুময় হবে : স্ত্রীকে ভালোবাসুন মন উজাড় করে

জীবন মধুময় হবে : স্ত্রীকে ভালোবাসুন মন উজাড় করে

জীবন মধুময় হবে  : স্ত্রীকে ভালোবাসুন মন উজাড় করে
Apr 18
03:092018
41


আমরা মানুষ। আদর-ভালোবাসা প্রিয়। আর মেয়েরা হলো সোহাগ কাতুরে। আবেগি। কোমল হৃদয়া। আদর- সোহাগ-ভালোবাসার পূর্ণ কদর সে করতে পারে। সামাজিক জীবনে সুখ, তাদের ছাড়া কল্পনাই করা যায় না । এজন্য আপনার স্ত্রী হয়ে যে মেয়েটি আপনার ঘরে এলো, প্রথমে তার বিসর্জনের কথাটা ভাবুন। তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। দেখবেন , আপনার সুখি আর কেউ নেই। আর এর বিপরীতে পৃথিবী আপনার বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। অবশ্য এই সম্পর্কের মাঝে থাকতে হয় গভীর ভালোবাসা, সত্য সুন্দর ভালোবাসা। ভালোবাসা ব্যতীত কোনো সাংসারিক জীবন, দাম্পত্য জীবন কখনই সুখের হয় না। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য ফাঁকা। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে ভাবাই যায় না। যে কোনো সংসারেই সাবলীল ও মধুর আনন্দ বজায় রাখতে হলে দরকার দু’জন দু’জনার ঐকমত্য।
জাফর সাহেব। একজন বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা। নয়টা থেকে পাঁচটা অফিস । কিছুটা ঝগড়াটে টাইফের। একদিনের ঘটনা। পাঁচটার পর যথারীতি অফিসের কাজ গুটিয়ে বাসা অভিমুখে রওনা হলেন। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন কাউন্টারের সামনের সারিতে। আচমকা পেছন থেকে একটা ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলেন। জামা-প্যান্ট ধূলি-ধূসর হয়ে গেল।
পেছন ফিরে যেসব শব্দ বা বাক্য তিনি সজোরে উচ্চারণ করলেন, তা সাধারণত কেউই শুনতে চায় না। কিন্তু কেউ কোনো জবাব দিল না । আশপাশে যারা ছিলেন , ভদ্র গোছের। ঝগড়াটে মানুষ ঝগড়া করতে না পারলে স্বস্তি পায় না। অবশেষে বাসায় ফেরার পর বৌয়ের হাতে হটপটটি দেয়ার সময় যে বাক্যটি বললেন, তা হলো

কী ছাইপাঁশ রান্না করো আজকাল, এসব কি খাওয়া যায়? সারাদিনে সামান্য একটু রান্না করবে-তারও এই হাল যত্তোসব। তারেক, তাকি ওরা কোথায়?
বৌঃ নিরুত্তরই থাকলো। কোন কথাই বললো না।
-কথা কানে যায় না? কোথায় ওরা এদিকে বৌ কাঁদতে কাঁদতে অন্দরে চলে গেল। তার ছেলে দুটি মায়ের রুমে আজ্রাইলের ভয়ে চুপটি মেরে পড়ে আছে। এদিকে বাসায় তার এক বন্ধু এলেন হঠাৎ করেই। কূশলাদি জিজ্ঞেস করতেই

ভালো আর থাকলাম কই,ঘরে-বাইরে সব খানেই অশান্তি আর অশান্তি। তোর ভাবীকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম ছেলেপুলেগুলো কোথায়,সে তার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
দুই বন্ধুর এরকম কথাবার্তার মাঝে তার স্ত্রী মেহমানকে সালাম দিয়ে ড্রইংরুমে এলেন। পারস্পরিক কূশল বিনিময়ের পর ভদ্র মহিলা চা আনার কথা বলে ভেতরে যাচ্ছিলেন, এমন সময় রহিম সাহেব টিপ্পনি কেটে বললেন,
তোমার যেই চা,ও আর খাওয়া লাগবে না। বরং ফল-টল কিছু দাও। ভদ্র মহিলা লজ্জিত হয়ে অন্দর মহলে চলে গেলেন।
বারে আসুন ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। প্রতিটি মানুষেরই আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে,আত্মমর্যাদা রয়েছে। রয়েছে তার নিজস্ব একটা অভিরুচি। সম্মান এমন একটি ব্যাপার,যা অনেকের কাছেই সম্পদের চেয়েও মূল্যবান। নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারীরাই কেবল ধন-সম্পদের লোভে মর্যাদা বা ব্যক্তিত্বকেও বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। কিন্তু যারা সৎ তারা মর্যাদাকে সব কিছুর উপরে স্থান দেয়। নারীরা স্বভাবতই লজ্জাবতী।
সৎ নারীদের কাছে অর্থাৎ লজ্জাশীলা নারীদের কাছে মর্যাদার গুরুত্ব বেশি। স্ত্রীরাও স্বামীদের কাছে একইভাবে মর্যাদা পেতে আশা করে। স্বামীরা যদি তাদেরকে অমর্যাদা কিংবা অপমানিত করে, তাহলে তারা ভীষণ আহত হয়। আর স্ত্রীদের অর্থাৎ নারীদের অনেকেরই স্বভাব হলো,আহত হলেও তা প্রকাশ না করা। কিন্তু ভেতরে ভেতরে কষ্টানলে জ্বলে অঙ্গার হয়। ধীরে ধীরে স্বামীর ব্যাপারে ভালো মনোভাব উঠে যায়। মনে ঘৃণা জমতে শুরু করে।

অথচ স্ত্রী হলো আপনার জীবনসঙ্গিনী, আপনার সেরা বন্ধু, আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ। ফলে সে-ই আপনার কাছ থেকে বন্ধুত্বের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা পাবার অধিকার রাখে। স্ত্রীকে সম্মান করলে তা প্রেম-ভালোবাসায় পরিণত হয়। ফলে স্ত্রীও আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুরক্ত হয়ে পড়বে। এই সম্মান বা মর্যাদা প্রদর্শনের ব্যাপারটি কিন্তু আলাদা কোন আনুষ্ঠানিকতার মতো ঘটনা নয়। বরং উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে সকল কাজে কর্মেই সম্মান প্রদর্শন করা যেতে পারে।
যখন বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন,স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিন। অফিসে এসে কাজের ফাঁকে খোঁজ নিন। বাসায় ফেরার পর দরজা খুলতেই তার আগে আপনিই সালাম দিন। সারাদিন কেমন কাটলো,খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হলো কিনা, সন্তানেরা জ্বালাতন করলো কিনা,এসব খোঁজ-খবর নিন। তারপর যতোক্ষণ একত্রে বাসায় থাকেন,সন্তানদের দেখাশোনার দায়-দায়িত্ব পালনে নিজেও অংশ নিন। স্ত্রী আপনাকে নিষেধ করলে আপনি বলুন সারাদিন তো তুমিই জ্বালাতন সহ্য কর। তার খানিকটা আমাকেও নিতে দাও। আপনার স্ত্রী এতে কৃতজ্ঞতায় বিনয়ী হয়ে উঠবে।
খাওয়া-দাওয়া করতে বসলেন-তার রান্নাবান্নার প্রশংসা করুন। ঠাট্টা-মশকরা করেও স্ত্রীকে বিদ্রুপ করা বা অসম্মানিত করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। কারণ আপনি ভালোবেসেই যে ঠাট্টা করেছেন এটা সে বুঝবে। সেজন্যে হয়তো কিছু মনে করবে না। তবে মনে মনে হয়তো ঠাট্টাটিকে সে অপছন্দই করতে পারে।
কী প্রয়োজন ঠাট্টার পরিবর্তে বরং প্রশংসার কাব্যিক পথ বেছে নিন। মজা যদি করতেই হয়,তাহলে এমন ধরনের রসিকতা করুন,যাতে মজাও পাওয়া যায় আবার সম্মান-মর্যাদায়ও আঘাত না লাগে। কোন মজলিসে কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সমাবেশে কখনই স্ত্রীকে খাটো করে বা অমর্যাদা করে কথা বলবেন না। বরং তাকে সম্মান দিয়ে তাকে প্রশংসা করুন।
এতে আপনার বন্ধু মহলেও আপনার স্ত্রীর সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে আপনারা দুজনেই সম্মানিত হবেন। আর পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক দৃঢ় হয়। সেইসাথে দাম্পত্য জীবন ও পরিবারে সুখ-শান্তি ও সৌরভময় এক পরিবেশ বিরাজ করে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,যে তার স্ত্রীকে সম্মান করবে,তার জান্নাত রাসুলের জান্নাতের কাছাকাছি হবে। তিনি বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে সকল পুরুষদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের উপর। রাসূল (সাঃ)-এর এই মহান বাণীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তাঁর সকল উম্মতের উচিত নিজ নিজ স্ত্রীকে সম্মান করা।
ইমাম সাদিক ও তাঁর পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন,যে বিয়ে করেছে তার অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হলো স্ত্রীকে সম্মান করা। পারিবারিক সুখ-শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থেই তারা স্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু এই সম্মান দেখানোর বিষয়টি অন্তর থেকে উত্থিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়। সম্মান ভালোবাসারই প্রকাশ। ফলে ভালোবাসা যেমন অকৃত্রিম হওয়া দরকার,সম্মান প্রদর্শনও ঠিক তাই হওয়া উচিত।
দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বিচিত্র ঘটনাবলীর সম্মুখীন হয়। এসব ঘটনা সবসময় সুখকর নাও হতে পারে। অফিসে বিচিত্র মানসিকতার সহকর্মী থাকে। সবাই যে বন্ধু সুলভ হবে তা নাও হতে পারে। ফলে আপনি যদি কারো কাছ থেকে কখনো অবন্ধুসুলভ আচরণ পান,তাহলে আপনার মনটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে। তার উপর হয়তো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেলেন, কিংবা দুর্ভাগ্যবশত: কোন ছিনতাইকারী আপনার সর্বস্ব লুট করে নিল-এরকম অবস্থায় আপনি বিক্ষুদ্ধ মনে বাসায় ফিরলেন। বাসায় ফেরার পর আপনি আর কাউকে না পেয়ে বেচারী স্ত্রীর ওপর মনের ঝাল ঝাড়লেন। আপনার ছেলে মেয়েরা আপনার আচরণ দেখে ভাবলো, বাবা তো নয় যেন এক আজরাইল বাসায় ফিরেছে। তারা আপনার কাছে না ঘেঁষে ভয়ে পালিয়ে বাঁচলো। এদিকে আপনার স্ত্রী আপনার জন্যে সারাদিন খেটে যে রান্নাবান্না করলো,সেই রান্নাবান্নার ছোট-খাটো স্বাভাবিক ত্রুটিতে আপনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলেন, কিংবা ঘরদোর হয়তো বাচ্চারা অগোছালো করে রেখেছে,কিংবা তারা চেঁচামেচি করছে-যাই হোক না কেন আপনি যদি এসব অজুহাতে আপনার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন, তাহলে এরচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী থাকতে পারে আপনি নিজেই আপনার সংসারকে দোজখে পরিণত করলেন। আপনার এই আচরণ মোটেই অভিভাবক সুলভ নয়,বরং একজন অত্যাচারী স্বৈরাচারের মতো। আপনার মতো স্বৈরাচারের শোষণে আপনার পুরো পরিবার অসহ্য যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে। আর আপনার স্ত্রী যে তার স্বামীকে দেখামাত্রই খুশী হয়ে ওঠার কথা ছিল,সে আপনার চেহারা দেখা মাত্রই বিরক্ত হয়ে উঠবে। আপনার সঙ্গই তার কাছে বিষময় মনে হবে।

ধীরে ধীরে আপনার স্ত্রী আপনার সঙ্গ ত্যাগ করতে চাইবে। বাচ্চাদের কারণে তা অসম্ভব হলে ঘৃণা করতে শুরু করবে। এর ফলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটি আপনার হবে, তাহলো আপনার এই আচরণের প্রভাব ছেলেমেয়েদের মনে ব্যাপকভাবে পড়বে। ছেলেমেয়েরা ধীরে ধীরে মানসিকভাবে এতটাই জটিল বা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে যে, তারা আপনার চেয়েও ভয়ঙ্কর কাজ শুরু করতে পারে। অপরাধ জগতে যারা প্রবেশ করে, তাদের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করে দেখলে এই জটিল মানসিকতার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে। যার মূল কারণ আপনারই রূঢ় ও ভারসাম্যহীন আচরণ। আপনার সাময়িক অসহিষ্ণুতা কতো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা একবার ভেবে দেখুন।
সর্বোপরি একটা বিষয় আপনার সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করা উচিত,তাহলো যেই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার কারণে আপনি রূঢ় আচরণ শুরু করলেন, সেই ঘটনার জন্য আপনি, আপনার স্ত্রী কিংবা ছেলেমেয়েরা কী দায়ী? মোটেই না। ফলে আপনার নিরপরাধ পরিবারের সদস্যদের সাথে নির্দয় আচরণ করা কি অন্যায় নয়? বুদ্ধিমানের কাজ হলো সবকিছুকে ঠাণ্ডা মাথায় মোকাবেলা করা। ধৈর্যহারা না হয়ে নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। কাজকর্ম সেরে ধীরে সুস্থে দুর্ঘটনার কথাটি আপনার স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সামনে তুলে ধরলে তারা বরং কষ্টটিকে আপনার সাথে ভাগ করে নেবে। এতে সবাই কষ্টের অংশীদার হলো। অন্যদিকে আপনাকে কতোভাবে যে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করবে,তাতে আপনার কষ্টকে আর কষ্টই মনে হবে না। আর আপনার সন্তানরা আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে। প্রতিদিন তারা অপেক্ষায় থাকবে কখন আপনি বাসায় ফিরবেন। ঠিকমতো আপনি পৌঁছলেন কিনা এ ব্যাপারে তারা সদা উদ্বিগ্ন থাকবে। যার ফলে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় হবে। তাই কোন সমস্যার মোকাবেলায় উগ্রতা পরিহার করে ঠাণ্ডা মাথায় সামাধান করার চেষ্টা করুন। পরিবারের সবার সাথে বিশেষ করে স্ত্রীর সাথে হাসিখুশী থাকার চেষ্টা করুন। সুন্দর আচরণ করার চেষ্টা করুন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এটাকে ঈমানের নিদর্শণ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দর আচরণ করে, তার ঈমান অধিকতর পূর্ণ। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ যে তার নিজ পরিবারের সাথে সুন্দর আচরণ করে। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, সুন্দর আচরণের চেয়ে শ্রেয়তর কোন কর্ম নেই। (তিরমিযী)

নিন্মে কয়েকটি টিপস উল্লেখ করা হলো এইগুলো ফলো করুন। আশা করি আপনার বৈবাহিক জীবন অবশ্যই সুখের হবে।
1. একই কাজ করে করে সে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে সুতরাং তাকে সময় দিন: আপনার স্ত্রীকে প্রতিদিন একই কাজ করতে হয়। প্রতিটি দিনই তাকে রান্নার কাজ করতে হয়। বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে হয়। তার এই কাজগুলো করতে করতে তিনি ক্লান্ত। তার জীবনে অফডে বলে কোনো কিছু নেই। তিনি সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করছেন এমনকি দিনের ২৪ ঘণ্টাই কাজ করছেন। তাই তাকে সময় দিন এবং তার সাথে মজা করুন।
2. স্ত্রী চায় আপনি তাকে ভালোবাসুন: যখন আপনার স্ত্রী অহংকার করা শুরু করে তখন আপনি তাকে অসম্মান করা শুরু করেন এবং আপনাদের গতানুগতিক জীবন এভাবেই চলতে থাকে। আপনাদের বৈবাহিক জীবনটা ভেঙে পড়ার আগে এর পরিবর্তন করুন। আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসুন।
3. তাকে কিছু কথা বলবেন না: আপনার স্ত্রী আপনার জন্যই কাজ করছে। তার কোনো কাজ অথবা কোনো কথা খারাপ লাগলে তাকে বলবেন না যে, তুমি হিংসুক। আপনার স্ত্রীকে কখনো অন্য কারো স্ত্রী অথবা মেয়ের সাথে তুলনা করবেন না। এমনকি তাকে একথাও বলবেন না যে, তুমি দেখতে খারাপ। এই কথাগুলো আপনার স্ত্রী শুনলে নিশ্চয় কষ্ট পাবেন।
4. তার কাজের প্রশংসা করুন: আপনার স্ত্রী সারাক্ষণই কাজ করছেন। পরিবারের কাজ করার জন্য সব আনন্দ বিসর্জন দিচ্ছে। সুতরাং সে যে কাজগুলো করছে আপনি তার কাজের প্রশংসা করুন।
5. স্ত্রীরা কখনই খুত ধরতে পছন্দ করে না: একটি কথার প্রচলন রয়েছে যে মুসলিম স্ত্রীরা খুত ধরতে পছন্দ করে। তবে স্বামীদেরও উচিৎ তাদের স্ত্রীর এই বিষয়ে অবগত থাকা।
6. আপনার স্ত্রী চায় আপনি তার জীবনকে আরো ভালো করবেন: আপনার স্ত্রী সার্বক্ষণিকই আপনা মঙ্গল কামনা করেন। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আপনি যখন কোনো কাজ করতে যাচ্ছেন তখন তার সাথে পরামর্শ করুন। এতে করে আপনার স্ত্রীর অনেক বেশি ভালো লাগবে।
7. আপনার স্ত্রী আপনার সাথে সুখী সংসার করতে চায়: আপনার স্ত্রী চান আপনাদের সম্পর্কটা খুব ভালোভাবে অতিবাহিত হোক। তাই আপনার উচিত হবে তাকে সময় দেওয়া যাতে করে আপনারদের দুইজনের বৈবাহিক সম্পর্কটা ভালোভাবে অতিবাহিত হয়।

নির্বাচিত সংবাদ

More Articles

অনলাইন জরিপ

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় ফোর-জি সেবা চালু হবে বলে মনে করেন কি?

পুরোনো ফলাফল