প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক পুড়িয়ে মারল ছেলে হৃদয়কে !। বিস্তারিত জানতে পরুন...

প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক পুড়িয়ে মারল ছেলে হৃদয়কে !। বিস্তারিত জানতে পরুন...

প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক পুড়িয়ে মারল ছেলে হৃদয়কে !। বিস্তারিত জানতে পরুন...
Apr 18
05:192018
49

পরকীয়া প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ছেলে হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় শেফালী আক্তার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।শুক্রবার ভোরে উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শেফালী ওই এলাকার লিবিয়া প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। নিহত হৃদয় তাদের বড় ছেলে এবং ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।এ ঘটনায় পুলিশ শেফালী বেগমকে আটক করেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈইপাড়া গ্রামের শেফালী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এতে নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করেন শেফালী তার প্রেমিক মোমেন।
শুক্রবার গভীর রাতে শেফালী প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত দুই সন্তান হৃদয় (৯) ও শিহাবকে (৭) কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলছে যায় নিষ্পাপ দুই সন্তানের দেহ। আশপাশের লোকজন তাদের আর্তচিৎকারে বেড়িয়ে এগিয়ে আসলেও অগ্নিদগ্ধ হৃদয় মারা যায়।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বাড়ৈপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান, নিহত হৃদয় ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রায় ১১ বছর আগে শেফালীর সাথে স্থানীয় বিল্লাল টৈইলারের ছেলে আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়।

জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরেই আনোয়ার হোসেন লিবিয়া প্রবাসি। উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া এলাকায়গ শ্বশুরবাড়িতেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন শেফালী।এরই মধ্যে স্থানীয় বিল্লালের ছেলে মোমনের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনার দিন রাতে মোমেন তার ঘরে অবস্থান করছিল। এসময় মায়ের সাথে অন্যপুরুষের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় ঘুমের বড়ি সেবন করিয়ে ঘুমন্ত শিশুদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় ঘটনাস্থলেই হৃদয় মারা যায়।এসময় পাশেই ঘুমিয়ে থাকা শিশু জিহাদও ঝলসে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ( ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার শ্রী উত্তম জানান, শিশু জিহাদের ১ হাত ও দু পা ঝলসে গেছে। তাকে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় যুবক রিপন জানান, মোমেনের সাথে শেফালীর দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিক সম্পর্কের কারনে তার প্রবাসী স্বামী তাকে ডির্ভোস দিয়ে দেন। কিন্তু এর পরও সে সন্তানদের নিয়ে এখানেই বসবাস করতে থাকেন। ঘটনার দিন রাতে মোমেন তার ঘরেই ছিল।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি এম এ হক জানান, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লালের ছেলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়।
তিনি জানান, আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। এ নিয়ে আনোয়ার তিন মাস আসে শেফালীর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। কিন্তু শেফালী বিষয়টি না মেনে শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন।
ওসি এম এ হক জানান, প্রাথমিকভাবে পরকীয়ার জেরে মোমেন ও শেফালী মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে শেফালীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আর মোমেনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

স্কুলছাত্র হৃদয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে আটক শেফালী আক্তার ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মোমেন তার ছেলেকে হত্যা করেছে।’

নির্বাচিত সংবাদ

More Articles

অনলাইন জরিপ

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় ফোর-জি সেবা চালু হবে বলে মনে করেন কি?

পুরোনো ফলাফল