সোনাগাছিতে মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্য পতিতালয়ে এত বড় ঘটনা !। বিস্তারিত জানতে পরুন...

সোনাগাছিতে মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্য পতিতালয়ে এত বড় ঘটনা !। বিস্তারিত জানতে পরুন...

সোনাগাছিতে মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্য পতিতালয়ে এত বড় ঘটনা !। বিস্তারিত জানতে পরুন...
Apr 18
05:242018
75

মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্যঃ অভাব মাত্র চার টাকা ৫৫ পয়সার৷ আর, তার জেরেই সুরক্ষিত থাকতে পারছেন না সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা৷

সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা অবশ্য হয়েছিল বছর দু’য়েক আগে৷ কিন্তু, যেখানে মাত্র ৪৫ পয়সায় কাজ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত চার টাকা ৫৫ পয়সা কেন খরচ করবেন তাঁরা?

কারণ, অতিরিক্ত ওই টাকা খরচ করতেও তাঁরা সমস্যায় পড়েন৷ যে কারণে কল্লোলিনী এই তিলোত্তমার অন্যতম যৌনপল্লি সোনাগাছির যৌনকর্মীরা সুরক্ষিতও থাকতে পারছেন না৷ কেন?

কারণ, কোনও কাস্টমারকে একবার খুশি করতে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের খরচ হয় মাত্র ৪৫ পয়সা৷ একটি কন্ডোম কেনার জন্যই ওই ৪৫ পয়সা খরচ করতে হয় তাঁদের৷

নিজেদের কিনতে হলেও, কাস্টমারকে অবশ্য ওই কন্ডোম ফ্রি-তেই দেন তাঁরা৷ কাজেই, কোনও কাস্টমারকে একবার খুশি করতে যদি ৪৫ পয়সার পরিবর্তে পাঁচ টাকা অর্থাৎ, অতিরিক্ত আরও চার টাকা ৫৫ পয়সা খরচ করতে হয়, তা হলে সমস্যায় পড়তে হয় সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷

তার উপর কোনও কাস্টমারকে যদি একই সঙ্গে একাধিকবার খুশি করতে হয়, তা হলে তো সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়৷ কারণ সেই একই৷ অতিরিক্ত খরচ৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷

প্রতিদিন যেভাবে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের সামলাতে হয় একের পর এক কাস্টমারকে, তাতে তাঁদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত খরচও অনেকটাই বেড়ে যায়৷ এ দিকে, প্রতিদিনের রোজগার থেকে ঘর ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে টাকা তাঁদের হাতে থাকে, তাতে এমনিতেই উদ্বিগ্ন থাকতে হয় তাঁদের৷

কাজেই, সোনাগাছির অনেক মেয়েই তাঁদের নিজেদের সুরক্ষার কথা মনে রাখলেও, অতিরিক্ত ওই চার টাকা ৫৫ পয়সা তাঁরা আর খরচ করতে চান না৷ অতিরিক্ত ওই টাকা খরচ করতেও কার্যত তাঁরা অপরাগ৷কীসের জন্য অতিরিক্ত ওই সাড়ে চার টাকারও বেশি খরচের প্রয়োজন রয়েছে?

কারণ একটিই৷ সেটি হল, ফিমেল কন্ডোম৷ সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা যে ফিমেল কন্ডোম ব্যবহার করবেন, তার প্রতিটির দাম পাঁচ টাকা৷ প্রতিটি ফিমেল কন্ডোম পাঁচ টাকা দিয়ে তাঁদের কিনতে হবে৷

তার পর নিজেদের তা ব্যবহার করতে হবে৷ এ দিকে, এইচআইভি/এইডসের বিষয়ে আগের তুলনায় সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তা সত্ত্বেও, এখনও সোনাগাছির কাস্টমারদের একাংশ কন্ডোম ছাড়াই যৌনসুখ পেতে বেশি পছন্দ করেন৷ ফলে, ওই কাস্টমাররা কন্ডোম নিতে চান না৷

সেক্ষেত্রে ফিমেল কন্ডোম ব্যবহার হলে, ওই কাস্টমাররা সাধারণত তা বুঝতেও পারবেন না৷ ফলে, সুরক্ষিত থাকতে পারবেন সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা৷

শুধু তাই নয়৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার কলকাতার অন্যতম যৌনপল্লি সোনাগাছির যৌনকর্মীরাও কন্ডোম ব্যবহার করেন না৷ কাস্টমারকে যৌনসুখ দেওয়ার আগে অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য যেমন কন্ডোম ব্যবহারের কথা মনে রাখতে পারেন না সোনাগাছির অনেক যৌনকর্মী৷

তেমনই আবার, কাস্টমার হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আতঙ্কেও সোনাগাছির অনেক যৌনকর্মী কন্ডোম ব্যবহারও করেন না৷ এই ধরনের বিষয়টি সাধারণত দেখা যায় সোনাগাছির বেশি বয়সি যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে৷

যে কারণে, বাজার খারাপ থাকার জন্য অনেক সময় বয়স হয়ে যাওয়া ওই যৌনকর্মীরা ৪৫ পয়সার কন্ডোমও কিনতে পারেন না৷ এমন ক্ষেত্রেও অসুরক্ষিত থেকে যেতে হচ্ছে সোনাগাছির ওই মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷

তা হলে কি অসুরক্ষিতই থেকে যেতে হবে তাঁদের? সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে-র কথায়, ‘‘বছর দু’য়েক আগে ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল৷

বছর দেড়েকের মতো ওই প্রচেষ্টা জারি ছিল৷ কিন্তু, প্রতিটি ফিমেল কন্ডোমের দাম পাঁচ টাকা৷ যেখানে ৪৫ পয়সায় কাজ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত খরচ করে প্রতিটি ফিমেল কন্ডোম পাঁচ টাকা দিয়ে মেয়েরা কিনতে চান না৷

কারণ, তাতে তাঁরা সমস্যায় পড়েন৷’’ একই সঙ্গে ভারতী দে বলেন, ‘‘যে জন্য এখন আর ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার হচ্ছে না সোনাগাছিতে৷ অথচ, ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার হলে মেয়েরা সুরক্ষিত থাকতে পারতেন৷’’

শুধু তাই নয়৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘বছর দু’য়েক আগে যখন ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার শুরু হয়েছিল, সে সময় সোনাগাছির ৬০ শতাংশ মেয়ে তা ব্যবহার করতেন৷’ অর্থাৎ, ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার শুরু হলেও, সোনাগাছির প্রতিটি যৌনকর্মী তা আবার ব্যবহারও করতেন না৷

যদিও, ফিমেল কন্ডোম ব্যবহারের পাঠও দেওয়া হয়েছিল সোনাগাছির মেয়েদের৷ সব মিলিয়ে, প্রতিবার যৌনসুখের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার টাকা ৫৫ পয়সার অভাবেই এখন অসুরক্ষিত থেকে যেতে হচ্ছে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷

নির্বাচিত সংবাদ

More Articles

অনলাইন জরিপ

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী দেড় বছরের মধ্যে প্রতিটি জেলায় ফোর-জি সেবা চালু হবে বলে মনে করেন কি?

পুরোনো ফলাফল